দুই ঘণ্টার আনন্দময় পিকনিক - Lakshmipur News | লক্ষীপুর নিউজ | ২৪ ঘন্টাই সংবাদ

Breaking


Post Top Ad

Responsive Ads Here

Post Top Ad

Thursday, December 21, 2017

দুই ঘণ্টার আনন্দময় পিকনিক

আঁখি ও তার বন্ধুদের সঙ্গে অনেকেরই হয়তো পরিচয় আছে। ২০১১ সালের একুশে বইমেলায় বেরিয়েছিল মুহম্মদ জাফর ইকবালের কিশোর উপন্যাস আঁখি ও আমরা ক’জন। সেই উপন্যাস থেকেই মোরশেদুল ইসলাম এবার বানালেন আঁখি ও তার বন্ধুরা। আগামীকাল মুক্তি পাচ্ছে ছবিটি।

সম্প্রতি প্রথম আলোর কার্যালয়ে আঁখি এল তার বন্ধুদের নিয়ে। সঙ্গে ছিলেন খ্যাতিমান অভিনেতা আল মনসুর। ছবি নিয়ে কথা শুরু হয়। প্রথমেই আল মনসুর জানালেন কী নিয়ে এই ছবি। গল্পের মূল চরিত্র আঁখি অন্য শিশুদের চেয়ে একটু আলাদা। সে চোখে দেখতে পায় না। সাধারণ একটি স্কুলে পড়তে এসেছে সে। সেখানেই হয়ে যায় তার অনেক বন্ধু।

অনন্য সামায়েল করেছে তিতু চরিত্রটি। সে বলে, স্কুলের সবাই যখন টেনিস বল দিয়ে ক্রিকেট খেলে, তখন আঁখি মাঠের পাশে বসে থাকে। অন্যদের চার-ছক্কায় মজা পায়। এটা দেখে আঁখির জন্য সে তৈরি করে দেয় একটি ‘ঝুনঝুন বল’। বলের শব্দ শুনে আঁখিও ব্যাটে বল লাগাতে পারে। একসময় ছক্কা মেরে জিতে যায় ক্রিকেট ম্যাচও। ম্যাচ জেতার আনন্দে আঁখির বাবা সবাইকে পাঠিয়ে দেন বান্দরবানে।

সৈয়দ আশিকুজ্জামান বলে, গল্পটা পড়ার সময় ও খুঁজছিল কোথায় বান্দরবানের দৃশ্যগুলো আছে। সে কী! বান্দরবানের দৃশ্যগুলোতে সে নেই! খুব মন খারাপ হয়েছিল তার। পরে অবশ্য অন্যদের হাল দেখে বুঝেছিল, না গিয়েই ভালো হয়েছে। আশিকুজ্জামানের এ কথায় অন্যরা হাসতে থাকে। ওরা জানে, কেন এ কথা বলছে সে। যারা গিয়েছিল, শুটিংয়ে অনেক কষ্ট হয়েছে তাদের।

একই অবস্থা হয়েছিল টিটুরও, অর্থাৎ নাবিল হাসানের। নাবিল বলে, ছবিতে সে তিতুর বড় ভাই হলেও এখন সবাই বেশ বন্ধু হয়ে গেছে তারা। সে-ও ভেবেছিল বান্দরবান যাবে, কিন্তু যাওয়া হয়নি। এ ছবির জন্য কষ্টও করতে হয়েছে তাকে। এমনিতেই ক্রিকেট খুব ভালো পারত না নাবিল। এরপরও স্পিন বোলার হয়ে শিখতে হয়েছে পেস বোলিং। আর সেটা শিখতে গিয়ে কত কাণ্ডই না হলো!

আঁখির সঙ্গে বান্দরবান যেতে পেরেছিল তার পাঁচ বন্ধু—তিতু, মামুন, সুজন, শান্তা ও রিতু। মামুন হয়েছিল আয়মান মাহমুদ। সে শুনেছিল, বান্দরবান খুব সুন্দর জায়গা। তাই শুটিংও সহজ হবে—সোজা হিসাব! কিন্তু মশা ও ছারপোকার কামড়, কেঁচোর যন্ত্রণা আর কনকনে ঠান্ডায় সে ভুল ভাঙতে খুব বেশি দেরি হয়নি। শীত ও বর্ষার রাতে সারা রাত জেগেও থাকতে হয়েছে তাদের।

সুজন হয়েছিল সাকিব আহমেদ। তার পালা এলে বলতে শুরু করে, সে হলো আঁখির দুষ্টু-চঞ্চল বন্ধু। ‘সাহসী, অদম্য, পরোপকারী।’ এ কথা বলতেই অন্যরা সমস্বরে প্রতিবাদ করে, ‘পরোপকারী! তোমার জন্যই তো ডাকাতরা আমাদের ধরে নিয়ে যায়!’

শান্তা চরিত্রটি করেছে আরিয়ানা কবির। একটুতেই ভয় পেয়ে যায় ছবিতে, কান্নাকাটি করে। তবে বাস্তব জীবনে সে একদমই অমন নয়। জুয়াইরিয়া আহমেদ করেছে রিতু চরিত্রটি। অভিনয়ের ইচ্ছা তার অনেক আগে থেকেই। কিন্তু তার চেহারা কোনো চরিত্রের সঙ্গে মিলছিল না বলে প্রথমে বাদ দেওয়া হয়েছিল তাকে।

পরে পরিচালকের সঙ্গে এক রকম ‘যুদ্ধ’ করেই চরিত্রটি বাগিয়ে নিয়েছে জুয়াইরিয়া। না হলে ‘রিতু’ করার কথা ছিল সুস্নাত দ্রবন্তীর। সে-ও এসেছিল সেদিন। পরে অন্য আরেকটি চরিত্র করতে হয় তাকে। এ নিয়ে একটু অনুযোগও করল সে। জুয়াইরিয়া ‘স্যরি’ বলে মিটমাট করে নিল ব্যাপারটা।

এবার আঁখির কণ্ঠ শোনা যায়। জাহিন নওয়ার হক খুব ছোটবেলায় মোরশেদুল ইসলামের দুটি নাটকে কাজ করেছিল। এখন সেসব মনেও নেই। একটি অন্ধ মেয়ের চরিত্র করতে গিয়ে অনেক প্রস্তুতি নিতে হয়েছে তাকে। শেষমেশ একদিন তার পানি খাওয়া দেখে মা বলেন, ‘একদম অন্ধ মেয়ের মতো দেখাচ্ছে তোকে।’

এক বছরেরও বেশি সময় ধরে ছবিটার সঙ্গে আছে তারা। প্রায় সবাই প্রথমবার ক্যামেরার সামনে দাঁড়াচ্ছে বলে ছয় মাস গ্রুমিং করাতে হয়েছে। একটি কথা বলল সবাই, নির্মাতা মোরশেদুল ইসলাম ও নির্বাহী প্রযোজক মুনিরা মোরশেদ না থাকলে এ ছবি কিছুতেই করতে পারত না তারা। শট ঠিকঠাকমতো না হলে মাঝেমধ্যে মোরশেদুল ইসলাম বকা দিয়েছেন ঠিকই, কিন্তু একটু পরে আদরও করে দিয়েছেন। আর মুনিরা মোরশেদ তো হাতে করে সবাইকে খাইয়ে দিতেন। কারও গ্রাসে একটু কম-বেশি খাবার পড়লেই হয়ে যেত ঝগড়া।

সবাই বলল আল মনসুরের কথাও। তিনি করেছেন ডাকাতের চরিত্র। ডাকাতের হাসি শুনে যেখানে তাদের কান্না করার কথা, সেখানে সবাই তাঁকে দেখে হেসে দিচ্ছে। এমন হাসিখুশি মজার মানুষ কেন ভিলেন চরিত্র করতে গেলেন, সে প্রশ্ন ছিল তাঁর কাছে। আল মনসুর বলেন, ‘মোরশেদ ভাই বললেন, একটা চরিত্র করতে হবে, আর আমিও রাজি হয়ে গেলাম। বাচ্চাদের সঙ্গে এমন কাজ আমি আগে করিনি।’ এ ছবি করতে অনেক কষ্ট হয়েছে, এ কথা তিনিও বললেন। তবে তাঁর কাছে এটি ছিল ‘অত্যন্ত আনন্দময় একটি পিকনিক’। প্রায় দুই ঘণ্টার এ ছবি প্রেক্ষাগৃহে বসে দেখলে পিকনিকের মজা অনেকটাই পাওয়া যাবে।

ছবিতে আরও অভিনয় করেছেন তারিক আনাম খান, সুবর্ণা মুস্তাফা ও মুনিরা ইউসুফ মেমি। দীপু নাম্বার টু, দূরত্ব ও আমার বন্ধু রাশেদ-এর পর শিশুদের নিয়ে মোরশেদুল ইসলামের চতুর্থ ছবি এটি। বললেন, ‘শিশুদের নিয়ে ছবি তো হয়ই না। নির্মাতাদের উচিত বাচ্চাদের নিয়ে আরও বেশি ছবি করা।’ দর্শকদের উদ্দেশে তিনি বললেন, ‘বাচ্চাদের নিয়ে হলে বসে

Post Top Ad

Responsive Ads Here