কেউ পাননি ‘আবাসন ভাতা’ - Lakshmipur News | লক্ষীপুর নিউজ | ২৪ ঘন্টাই সংবাদ

Breaking


Post Top Ad

Responsive Ads Here

Post Top Ad

Monday, December 14, 2020

কেউ পাননি ‘আবাসন ভাতা’


সরকারি সিদ্ধান্তের সাড়ে চার মাস পরও চিকিৎসক, নার্সসহ স্বাস্থ্যকর্মীরা ভাতা পাননি। কোয়ারেন্টিন করছেন নিজস্ব ব্যবস্থাপনায়।


ঢাকা মহানগরীতে করোনার চিকিৎসায় নিয়োজিত চিকিৎসকেরা দৈনিক ২ হাজার টাকা ভাতা পাবেন।


ঢাকার বাইরের চিকিৎসকেরা পাবেন ১ হাজার ৮০০ টাকা।


রাজধানীতে করোনা রোগীদের চিকিৎসার দায়িত্বে থাকা একজন চিকিৎসকের দৈনিক দুই হাজার টাকা ‘আবাসন ভাতা’ পাওয়ার কথা। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো চিকিৎসকই এই ভাতা পাননি। গত আগস্ট মাস থেকে চিকিৎসকদের এই ভাতা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।


সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের করোনা ইউনিটের একজন চিকিৎসক বলেন, করোনার শুরু থেকেই সম্মুখসারির যোদ্ধারা নানাভাবে বঞ্চিত হচ্ছেন। চার মাসেও একটি টাকা ভাতা দেওয়া হয়নি। এখন দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে বাবা-মাসহ পরিবারের সদস্যদের ঝুঁকিতে ফেলতে হচ্ছে।


গত ২৯ জুলাই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এক পরিপত্রে বলা হয়, চিকিৎসকসহ স্বাস্থ্যকর্মীরা টানা ১৫ দিন দায়িত্ব (করোনার চিকিৎসায় নিয়োজিত) পালন করবেন। দায়িত্ব পালন শেষে ১৫ দিন নিজ উদ্যোগে কোয়ারেন্টিনে (সঙ্গনিরোধ) থাকবেন। অবশ্য ওই পরিপত্রে ঢাকা মহানগরের চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের থাকার (কোয়ারেন্টিনের ১৫ দিন) জন্য ছয়টি সরকারি স্থাপনা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়। অন্যদিকে ঢাকার বাইরে জেলা ও উপজেলার ক্ষেত্রে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করে সেখানকার কোনো সরকারি প্রতিষ্ঠানে এমন ব্যবস্থা করতে বলা হয়।

ঢাকার জন্য বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস একাডেমি, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ ম্যানেজমেন্ট, জাতীয় পরিকল্পনা ও উন্নয়ন একাডেমি, ন্যাশনাল একাডেমি অব এডুকেশনাল ম্যানেজমেন্ট, টিচার্স ট্রেনিং কলেজ ও জাতীয় স্থানীয় সরকার ইনস্টিটিউট ঠিক করা হয়। যাঁরা এসব জায়গায় থাকবেন না, শুধু তাঁরাই দৈনিক আবাসন ভাতা পাবেন।


বিষয়টি নিয়ে করোনার জন্য নির্ধারিত রাজধানীর তিনটি সরকারি হাসপাতালের ছয়জন চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলেছে প্রথম আলো। তাঁরা বলেন, সরকারি যে আবাসন রয়েছে, সেটি স্বাস্থ্যসম্মত নয়। এক কক্ষে একাধিক চিকিৎসকের থাকার ব্যবস্থা। একজনের মাধ্যমে আরেকজনের সংক্রমণের আশঙ্কা থাকেই। আর হোটেলের মতো সুযোগ-সুবিধা সরকারি ব্যবস্থাপনায় নেই।


দেশে গত ৮ মার্চ প্রথম করোনা সংক্রমণের তথ্য জানায় সরকার। এরপর ১২ এপ্রিল রাজধানীতে করোনায় আক্রান্ত রোগীদের সেবাদানকারী চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের থাকার জন্য ১৯টি হোটেল নির্ধারণ করে দেয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। তখন ৭ দিন হাসপাতালে দায়িত্ব পালন করে পরের ১৪ দিন হোটেলে বিনা খরচে কোয়ারেন্টিনে থাকার সুযোগ পেতেন তাঁরা। স্বাস্থ্যকর্মীদের নিজেদের সুরক্ষার পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি এড়ানোই ছিল এর মূল লক্ষ্য। তবে এই ব্যবস্থা থেকে সরে এসে ২৯ জুলাই দৈনিক ‘আবাসন ভাতা’ দেওয়ার নতুন নিয়ম চালু করে সরকার।


বাংলাদেশ নার্সেস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ইসমত আরা পারভিন প্রথম আলোকে বলেন, স্বাস্থ্যকর্মীরা ঝুঁকি নিয়ে সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। তাঁরা ফাইভ স্টার হোটেলে থাকতে চাননি, ন্যূনতম সুবিধাসহ কোয়ারেন্টিনের ব্যবস্থা থাকলে ভালো হতো। আবার সম্মুখসারির যোদ্ধাদের ভাতা নিয়ে এমন বিলম্ব দুঃখজনক।


সাড়ে চার মাসেও ভাতার টাকা পাননি

ঢাকা মহানগরীতে করোনার চিকিৎসায় নিয়োজিত চিকিৎসকেরা দৈনিক ২ হাজার টাকা করে এবং ঢাকার বাইরের চিকিৎসকেরা ১ হাজার ৮০০ টাকা করে ভাতা পাবেন। নার্সরা ১ হাজার ২০০ টাকা ও ঢাকার বাইরের নার্সরা ১ হাজার টাকা এবং ঢাকা মহানগরীর অন্য স্বাস্থ্যকর্মীরা ৮০০ টাকা ও ঢাকার বাইরের স্বাস্থ্যকর্মীরা ৬৫০ টাকা করে দৈনিক ভাতা পাবেন। তবে কেউ এক মাসে ১৫ দিনের বেশি ভাতা পাবেন না।


স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, এপ্রিল-জুলাই মাসে স্বাস্থ্যকর্মীদের আবাসন, খাওয়া ও যাতায়াত সুবিধা নিশ্চিত করতে গিয়ে সরকারের প্রচুর অর্থ ব্যয় হয়েছে। করোনার সংক্রমণ দীর্ঘায়িত হওয়ায় এমন ব্যয় চালিয়ে যাওয়া কষ্টসাধ্য। যে কারণে হোটেলের সুবিধা বাতিল করা হয়।


এ বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মুখপাত্র ও পরিচালক (এমআইএস) হাবিবুর রহমান বলেন, স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য আবারও হোটেলে আবাসনের ব্যবস্থা করার পরিকল্পনা আপাতত নেই। গত সপ্তাহে অনুষ্ঠিত এক সভায় করোনা হাসপাতালে দায়িত্বরত স্বাস্থ্যকর্মীদের আবাসন ভাতা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। মাসিক ভিত্তিতে এই ভাতা দ্রুততম সময়ের মধ্যে দেওয়া হবে।


বাড়িতে থেকে কোয়ারেন্টিন করা নিয়ে চিকিৎসকদের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে। চিকিৎসকেরা বলছেন, এখন পর্যন্ত পেশাজীবীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি মৃত্যুও হয়েছে চিকিৎসকদের। ভাতা দেওয়ার চেয়ে সরকারি ব্যবস্থাপনায় স্বাস্থ্যসম্মতভাবে আবাসনের ব্যবস্থা করার দাবি জানান তাঁরা।


স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের খামখেয়ালির কারণে স্বাস্থ্যকর্মীরা এখনো ভাতা পাননি বলে মনে করেন বিএমএর দপ্তর সম্পাদক শেখ শহীদ উল্লাহ। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের বিষয়কে যথাযথ গুরুত্ব না দেওয়ার কারণে ভাতার ব্যবস্থা হচ্ছে না। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী যাঁর যা প্রাপ্য, তা দ্রুত সময়ের মধ্যে পরিশোধ করা জরুরি।

Post Top Ad

Responsive Ads Here